দুই দশকে ২০ হাজার কোটি ডলার দানের ঘোষণা বিল গেটসের

আগামী দুই দশকে ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলার দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।

আগামী দুই দশকে ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলার দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এ অর্থ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পোলিও ও ম্যালেরিয়া নির্মূল, মা ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং দারিদ্র্য কমানোর মতো বৈশ্বিক উদ্যোগে ব্যবহার করা হবে। একই ঘোষণায় শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্কের সমালোচনা করেন বিল গেটস। খবর রয়টার্স।

৬৯ বছর বয়সী এ ধনকুবের জানান, তিনি সম্পদের প্রায় পুরোটাই দ্রুত দান করতে চান। তাই পূর্বঘোষিত সময়ের তুলনায় অনেক আগে ২০৪৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বন্ধ করে দেয়া হবে গেটস ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে বিল গেটস বলেন, ‘মানুষকে সাহায্যের জন্য যে সম্পদ ব্যবহার করা যেতে পারে তা ধরে রাখার কোনো মানে নেই।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রাণঘাতী রোগ ও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে বৈদেশিক তহবিল সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র, এতে ইলোন মাস্কের ভূমিকা রয়েছে। এসব তহবিল বাতিল বা সংকোচনে ক্ষুব্ধ মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা। এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ ধনীর কারণে পৃথিবীর দরিদ্রতম শিশুদের মৃত্যুর বন্দোবস্ত নিশ্চয়ই সুখকর কিছু নয়।’

মার্কিন সরকারের তহবিল বাতিল, সংকোচন বা পরিবর্তনের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন ধনকুবের ইলোন মাস্ক। তিনি নবগঠিত সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট ইফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যার অধীন বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থায় কর্মী ছাঁটাই ও বাজেট কাটছাঁট চলছে। মাস্কের পরামর্শেই আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির ৮০ শতাংশ কর্মসূচির বরাদ্দ বাতিল বা সংকুচিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের হিসাবে দেখা গেছে, সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

বিল গেটস বলেন, ‘ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে। এ ব্যাপক প্রাণহানির মূল কারণ হতে যাচ্ছে বরাদ্দের অভাব।’ তার মতে, মৃত্যুহার হ্রাস করতে গত কয়েক দশকে অনেক অগ্রসর হয়েছিল বিশ্ব। তবে মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আগামী চার-ছয় বছরে সে অগ্রগতি উল্টো পথে হাঁটা ধরতে পারে।

২০২৬ সালের মধ্যে গেটস ফাউন্ডেশনের বার্ষিক বাজেট ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। সংস্থার বাজেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিল গেটস জানান, এরপর থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার খরচ করা হবে। তবে সরকার সৃষ্ট ঘাটতি শুধু ফাউন্ডেশন বা অন্য দাতব্য সংস্থাগুলোর পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

একসময় বিল গেটস এবং টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলোন মাস্ক দরিদ্রদের সহায়তার বিষয়ে একমত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তারা একাধিকবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। নিজের মালিকানাধীন মাইক্রো ব্লগিং প্লাটফর্ম এক্সে এক ভিডিও পোস্টে বিল গেটসকে ‘বড় মাপের মিথ্যাবাদী’ আখ্যাও দেন মাস্ক।

এদিকে ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে বিল গেটস লেখেন, ‘মানুষের উপকারে লাগে এমন সম্পদ আমি নিজের কাছে রেখে দিতে পারি না, যখন এত সমস্যা জরুরি সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে।’

একই সঙ্গে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘ধনী দেশগুলো আদৌ দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।’

সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসকে সঙ্গে নিয়ে ২০০০ সালে গেটস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বিল গেটস। পরে এতে যুক্ত হন বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশনটি প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে। বিতরণকৃত অর্থের বড় একটি অংশ গেছে গ্যাভি ও গ্লোবাল ফান্ডের মতো বৈশ্বিক উদ্যোগে।

আরও